মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী হও


ছোটবেলায় আমাদের কথা বলা থেকে শুরু করে হাঁটতে পারা পর্যন্ত স্টেপগুলো খুব গতানুগতিকভাবেই হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলো শেখার জন্য কিন্তু খুব কষ্টের প্রয়োজন হয় না।
সমস্যাটা প্রকটভাবে দেখা দেয় পড়ালেখার মাঝে, কোন একটা কঠিন বিষয় কিংবা টপিক যার নাম শুনলেই যখন চোখ ছানাবড়া অবস্থা তখন বুঝা যায় কত ধানে কত চাল! পড়ালেখাটাই তখন অসহ্য হয়ে উঠে। দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা অবশ্যই বিস্ময়কর এক সম্পদ।
মানুষের মস্তিষ্কের দুটি দিক রয়েছে। একটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমঅন্যটি পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের আবার অনেক ভাগ। এর সঙ্গে রয়েছে নানা রকম কাজ। তার একটি হলো মেমোরি বা স্মৃতিশক্তি।
সবার স্মৃতিশক্তি এক নয়। যে সকল ছাত্ররা কোন একটি নতুন কন হসেপ্ট খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারে কিংবা অল্প সময়ে মুখস্থ করতে পারে এবং এটির যথার্থ প্রয়োগ করতে পারে অবশ্যই এটি তাদের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।
সুতরাং আমাদের মনে অবশ্যই প্রশ্ন জাগতে পারে দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা কি শুধুমাত্র তাদের জন্যই বরাদ্দ যারা আমাদের মাঝে খুব জিনিয়াস? তাহলে নিশ্চয়ই এটা বিধাতা প্রদত্ত তাদের জন্য উপহারস্বরূপ! তাহলে আমরা কেন শুধু শুধু দাঁতভাঙ্গা টপিক্স নিয়ে মাথা ঘামিয়ে হা-হুতাশ করবো?

এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আমাদের মাঝে যে কেউ চাইলেই খুব দ্রুত কোন টপিক্স খুব সহজেই মুখস্থ করে নিতে পারি কয়েকটি স্টেপ অনুসরণ করার মাধ্যমেই।

১। সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি বারবার পড়ার উপর জোর দেওয়া:

আমাদের একটি বড্ড বাজে অভ্যাস রয়েছে, আমরা কী পড়লাম তার থেকে কতটুকু সময় পড়েছি তার উপর বেশী জোর দেই। ধরা যাক আজ সকালে উঠে আমি একটানা পাঁচ ঘণ্টা পড়েছি কিন্তু আসলেই কি সম্ভব একটানা পাঁচ ঘন্টা পড়া? টানা পাঁচ কেন দুই ঘণ্টাই মনোযোগ ধরে রাখা কিন্তু চাট্টিখানি কথা না, একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে পাঁচ ঘন্টার মাঝে কতবার আমাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে।
হয়তো পড়ার মাঝেই আমাদের ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করছি, মেইল চেক করছি, কিংবা ইউটিউবে ঢুকে বসে আছি। এভাবে ২-৩ ঘণ্টা পড়ার পর ভাবছি আজ না জানি কত বেশি পড়ে ফেললাম। অথচ এই সময়টুকুতে যতোটুকু পড়া যেতো তা কিন্তু হয় নি।
কোন টপিক শিখতে কত সময় পড়লাম সেটা কখনোই মুখ্য বিষয় নয়, বরং টপিকটি আমি কয়বার ভালোভাবে বুঝে পড়েছি সেটাই মুখ্য বিষয়।
সুতরাং, পড়তে বসার সময় কোন টপিক মুখস্থ করার জন্য কোন নির্ধারিত সময় ফিক্সড না করে বরং টপিকটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত লাইন বাই লাইন কয়েকবার পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একটা দাঁতভাঙ্গা অনুচ্ছেদ প্রথমবার পুরোটা পড়লে যতটুকু কঠিন মনে হবে দ্বিতীয়বার পড়লে তুলনামূলক কম কঠিন মনে হবে। সুতরাং যতবার পুনরায় পড়া হবে ততোটাই সহজ মনে হবে।

২। অনুচ্ছেদটিকে ভেঙ্গে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে পয়েন্ট আউট করে ফেলা:

টপিকটি সম্পূর্ণ লাইন বাই লাইন পড়া হয়ে গেলে যে সকল বাক্যগুলো দুর্বোধ্য সেগুলো আন্ডারলাইন করে ফেলতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো বের করে নিয়ে আসতে হবে। একেকটি পয়েন্ট একটি শব্দ কিংবা একটি ছোট বাক্যের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে। পয়েন্ট আউট করাটা অবশ্যই বুদ্ধিমত্তার সাথে করতে হবে যেন একবার পড়ার সাথে সাথেই টপিক্সটির একটি বিশেষ অংশ মাথায় খেলা শুরু করে। অতঃপর পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করতে হবে।

৩। পয়েন্টগুলোর সমন্বয়ে একটি শেকল তৈরি করা:

আমাদের কাছে এখন টপিকটির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো রয়েছে। এখন খুব সহজেই প্রতিটি পয়েন্ট দেখেই বুঝে ফেলতে পারবো কোনটি দিয়ে কী বুঝানো হচ্ছে, যদি অনুচ্ছেদটি ভালোভাবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হয়ে থাকে।
প্রতিটি পয়েন্ট মাথায় গেঁথে ফেলতে হবে এবং সুন্দর করে পয়েন্টগুলো ধারাবাহিকভাবে খাতায় টুকে ফেলতে হবে অনেকটা শেকলের মতো। যেন দেখলেই বুঝতে সহজ হয় কোন পয়েন্টটা আগে আসবে আর কোন পয়েন্টটা তারপরে আসবে। এখন সবগুলো পয়েন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটিকে মাথায় গেঁথে নিতে পারবো।

৪। মুখস্থ করার প্রক্রিয়াকে একটি নতুন খেলার মধ্যে আবদ্ধ করা:

আমরা সবসময় পড়ালেখা থেকে খেলাধুলাকেই বেশি প্রাধান্য দেই। যদি পড়ালেখাটা কোন আনন্দদায়ক খেলার মতো হতো তাহলে কিন্তু কয়েকবার সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি পড়ে ফেলতাম। একজন কবিতাপ্রেমী মানুষ একটি কবিতা বারবার পড়ার পরেও বিরক্ত হবে না কিংবা একজন গানপ্রিয় মানুষ সারাদিন গান শুনলেও কিন্তু বিরক্ত হবে না; কারণ এগুলোর মাঝে তারা আনন্দ খুঁজে পায়।
কিন্তু পড়ালেখার মাঝে এই আনন্দ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর; তার উপর যদি হয় দাঁতভাঙ্গা কোন টপিক তাহলে তো মরার উপর খাড়ার ঘা। উপরের তিনটি পয়েন্টের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য আমরা মুখস্থ করার প্রক্রিয়াকে একটি নতুন খেলার মাঝে নিয়ে আসবো। খেলাটি হবে এমন, আমরা কিছু নিয়ম দিবো খেলাটির এবং খেলা শেষে নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করবো।
কোনকিছু দ্রুত মুখস্থ করার জন্য প্রয়োজন একটি ফ্রেশ মস্তিষ্কের
ধরি আজকে এই কঠিন টপিকটি মুখস্থ করবো এবং তারপরে একটি মুভি দেখবো কিংবা বাইরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবো। নিয়মটি হবে এমন, আমি যদি মুখস্থ করতে না পারি তাহলে আমি ঘুরতে যাবো না। এতটুকু সংকল্প নিজের মাঝে আনতে পারলে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি তখন খেলার মতো মনে হবে। আবার খেয়াল করলে দেখা যাবে বাইরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমরা ঠিকই কঠিন টপিকটি খুব সহজেই মুখস্থ করে ফেলছি এবং সময়ও খুব কম লাগছে।

৫। আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ কখন দিতে পারবো তা বের করা:

বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই রাত জেগে পড়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কিন্তু গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাত জেগে পড়া তুলনামূলক কম কার্যকর। কোনকিছু দ্রুত মুখস্থ করার জন্য প্রয়োজন একটি ফ্রেশ মস্তিষ্কের।
মস্তিষ্ক সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর সবচেয়ে বেশি ক্লিন থাকে; তখন আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার মতো ক্ষমতা তৈরি হয়। বিকেলবেলা পড়ালেখাটা এক কথায় অস্বস্তিকর, তার উপর যদি হয় মুখস্থবিদ্যার প্রয়োগ তাহলে তো মাথা বিগড়ে যাওয়ার কথা।
সুতরাং, মুখস্থবিদ্যা প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ খুব জরুরী। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে সময়টা একরকম নাও হতে পারে। অতঃপর পড়া শুরু করার অনেকটুকু সময় পর যখন দেখবো মুখস্থ করার কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে তখন স্বল্প সময়ের একটি ব্রেক দিবো, ব্রেকের পরে আবার পড়তে বসবো। একটানা লম্বা সময় ধরে পড়ার তুলনায় ব্রেক দিয়ে পড়ালখা বেশি কার্যকর।

উপরোক্ত পাঁচটি ধাপকে অভ্যাসের মাঝে নিয়ে আসতে পারলে খুব সহজেই আমাদের মাঝে মুখস্থবিদ্যার ভয়কে জয় করে পড়ালেখাটাকে উপভোগ্য করে তোলা যাবে।
                 Content credit

No comments:

Give us your opinion about this content.


  • Model Test
    Teachers Content
  • Model Test
    Journalism Course
  • Model Test
    Class 8
  • Model Test
    Class 5
  • Model Test
    Admission