ব্যায়াম না করলে যে ক্ষতিগুলো হবে।

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ও শরীরের ওজনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও শরীরের হাড়ের দৃঢ়তা বজায় রাখা, মাংসপেশীর সবলতা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের স্বাভাবিক চলন ক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। তুমি যদি ব্যায়াম না করো তাহলে ধীরে ধীরে তোমার পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শরীরে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। চলো জেনে নেই ব্যায়াম জিনিসটা কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ।


১. রোগ প্রতিরোধ:

আমরা সাধারণত শারীরিক ফিটনেস রক্ষা এবং ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম করে থাকি। তবে ভালো স্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্যও ব্যায়াম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম হৃদরোগ, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য আরো অনেক রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

২. শক্তি ও ভারসাম্য বৃদ্ধি:

অ্যানেরোবিক ব্যায়াম নামে এক ধরণের ব্যায়াম আছে যা তোমার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করবে, মাংসপেশী ও হাড়ের সবলতা বৃদ্ধি করবে এবং এর পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য রক্ষায়ও সাহায্য করবে। অ্যানেরোবিক ব্যায়াম বলতে আমরা সাধারণত পুশ-আপ, বাইসেপ কার্লস, পুলআপ ইত্যাদিকে বুঝি।

৩. ফ্লেক্সিবিলিটি বৃদ্ধি:

ব্যায়াম তোমার শরীরের মাংশপেশীর প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এছাড়াও তোমার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি করবে যার ফলে ইনজুরি বা আঘাতের প্রবণতা হ্রাস পাবে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ফ্লেক্সিবিলিটি বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে তুমি আগের চেয়ে বেশি আরামবোধ করবে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ:

প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করো। যদি প্রতিদিন ব্যায়াম করা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত সপ্তাহে ৫ দিন সময় বের করে ব্যায়াম করো। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আর চর্বিযুক্ত খাবার কম খেলে দেখবে তোমার ওজন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাই যারা ওজন বেশি হয়ে যাওয়ায় তা নিয়ে চিন্তায় আছো তারা নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করো ও নিয়ম মেনে খাবার খাও। দেখবে, ওজন ধীরে ধীরে ঠিকই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

৫। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি:

ব্যায়াম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে, চিন্তাভাবনার দক্ষতা বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের ফলে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোর বৃদ্ধিকে উন্নত করে। যার ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
নিয়ম মেনে ব্যায়ামে কোন অপকারিতা নেই

৬. ভালো ঘুম ও মানসিক শান্তি:

বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই পরামর্শ দেন নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য। ব্যায়ামের ফলে শারীরিক দুর্বলতা হ্রাস পায় এবং ব্যায়াম ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে মানসিক চাপ অনেকাংশেই কমে আসে।


৭. জীবনের মান উন্নয়ন:

তুমি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা শুরু করো তাহলে কিছুদিন পরই তুমি তোমার জীবনের মানের পরিবর্তন বুঝতে পারবে। সেই সাথে তুমি আবিষ্কার করবে ব্যায়াম জিনিসটা আসলেই কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম তোমার মানসিক চাপ কমাতে, মুড ভালো রাখতে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করবে এবং এর ফলে সবসময় তোমার নিজেকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত মনে হবে।
ব্যায়াম এমন একটা জিনিস যার শুধু উপকারিতাই আছে, নিয়ম মেনে ব্যায়ামে কোন অপকারিতা নেই। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় হলেও ব্যায়াম করার চেষ্টা করো। ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে অন্তত কিছু সময় হাঁটার চেষ্টা করো। কোন কারণে এটিও করা সম্ভব না হলে পরবর্তি দিন অবশ্যই তা করে নিয়ো।

Shahedur Rahman Rony

No comments:

Give us your opinion about this content.


  • Model Test
    Teachers Content
  • Model Test
    Journalism Course
  • Model Test
    Class 8
  • Model Test
    Class 5
  • Model Test
    Admission